অ্যালগরিদম কি ? অ্যালগরিদম এর ৫ টি প্রধান বৈশিষ্ট্য

5/5 - (1 vote)

নমস্কার বন্ধুরা আপনাদের সবাইকে স্বাগতম, আজকের এই পোস্টে আমরা অ্যালগরিদম সম্পর্কে আলোচনা করবো , কারণ অ্যালগরিদম এর নাম হয়তো অনেকেই শুনেছেন কিন্তু তার মধ্যে খুব কম মানুষই জানে যে অ্যালগরিদম কি ? , তবে যারা অ্যালগরিদম এর সম্বন্ধে জানেনা তাদের চিন্তার কিছু নেই । আমরা আপনাদের অ্যালগরিদম সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য দেব, এর জন্য অবশ্যই আমাদের পোস্ট টি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন । 

তাহলে চলুন শুরু করা যাক , প্রথমে আমরা জানব অ্যালগরিদম কি ?

অ্যালগরিদম কি ?

অ্যালগরিদমগুলি একটি প্রোগ্রামিং ভাষায় প্রোগ্রাম লেখার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে একটি ভাল প্রোগ্রাম তৈরি করা যায়।অ্যালবামের আচরণটি যে কোনও সমস্যা সমাধানের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

অ্যালগরিদম যে কোনো সমস্যা কে ধাপে ধাপে সমাধান করে থাকে , যেমন ধরুন আপনি কাউকে ফোন করবেন , তো অ্যালগরিদম এর হিসাবে এটি একটি সমস্যা হিসেবে ধরা যেতে পারে , কারণ একটি ফোন করার আগে আপনাকে বেশ কিছু কাজ করতে হয় , যেমন প্রথমে আপনাকে দেখতে হবে যে আপনার ফোন টি একটিভ আছে কিনা , এরপর দ্বিতীয় ধাপে আপনি  যে ব্যাক্তি কে ফোন করবেন তার ফোন নম্বর ডায়াল করবেন , তৃতীয় ধাপে ফোন নম্বর ডায়াল করার পর রিং হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে , চতুর্থ ধাপে যদি রিং হয় এবং সেই ব্যাক্তি যদি আপনার ফোন গ্রহণ বা রিসিভ করে তাহলে আপনার সাথে তার কথা হবে ।

এই চারটি ধাপে আপনি আশা করি বুঝতে পেরেছেন যে ফোন করার মতো এই সহজ কাজ টি করার জন্য আপনাকে ক্রমানুযায়ী ধাপ গুলি অনুসরণ করতে হয় । এছাড়া আপনি এই ধাপ গুলিকে পরিবর্তন করতে পারবেন না এবং কোনো ধাপ কে বাদ দিতেও পারবেন না , যদি আমরা এর মধ্যে কোনো একটি ধাপ কে না অনুসরণ করি তাহলে আপনি যে ব্যাক্তিকে ফোন করতে চাইছেন তার সাথে কথা বলতে পারবেন না , অর্থাৎ আপনার সমস্যার সমাধান হবে না ।

তাই যে কোনো সমস্যার সমাধান পেতে গেলে আপনাকে সেই সমস্যাটিকে বিভিন্ন ধাপে নির্ধারিত করতে হবে , আর এই ধাপ গুলিকে অ্যালগরিদম বলা হয় ।

১. অ্যালগরিদম এর বৈশিষ্ট্য 

অ্যালগরিদম এর মধ্যে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়া যায় , যেগুলোর সম্বন্ধে আমরা এখন আলোচনা করবো ।

১.১. Finiteness 

একটি অ্যালগরিদম যত কম ধাপে তার সম্পূর্ণ কাজ গুলি করতে পারে , সেটি ততই উন্নত ও ভালো মানের হয়ে থাকে , অর্থাৎ এই অ্যালগরিদম গুলিতে ধাপ বা Step এর সীমাবদ্ধতা থাকে ।

১.২. Precisely Defined 

অ্যালগরিদম এর  প্রতিটা ধাপ বা Step গুলি পরিষ্কার ভাবে নির্ধারিত হয়ে থাকে , যেগুলিকে খুব সহজে পড়া বা Read করা যেতে পারে ।

১.৩. Input 

একটি ভালো অ্যালগরিদম সব সময় একটি ভালো ইনপুট নিয়ে থাকে , এবং সেই ইনপুট কে কাজে লাগিয়ে কাজ করে থাকে ।

১.৪. Output

একটি অ্যালগরিদম সর্বদা ভালো ইনপুট এর সাথে সাথে একটি ভালো আউটপুট ও নিয়ে থাকে এবং এই ইনপুট ও আউটপুট কে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে থাকে ।

১.৫. Effectiveness 

অ্যালগরিদম সবসময় সমস্যা সমাধান বা Problem Solving হয়ে থাকে , তাই বড়ো বড়ো সমস্যা সমাধানের জন্য অ্যালগরিদম এর ব্যবহার করা হয়ে থাকে ।

১.৬. Unambiguous 

অ্যালগরিদম সঠিক এবং স্পষ্ট হওয়া অত্যন্ত জরুরি , যেখানে স্টেপ বা ধাপ ও লাইন গুলির কোনো অর্থ বা সমাধান বের হয় ।

২. অ্যালগরিদম এর ব্যবহার

আপনারা এটা নিশ্চয় জানেন যে অ্যালগরিদম এর ব্যবহার এখন সব জায়গায় করা হচ্ছে এবং যে কোনো সমস্যার সমাধান এর সাহায্যে স্টেপ বা ধাপ অনুসারে করা হয় । অ্যালগরিদম বিশেষ করে কোনো কোম্পানি , ইন্ডাস্ট্রি ও প্রোগ্রামিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে । চলুন এরপর দেখে নেওয়া যাক অ্যালগরিদম এর ব্যবহার কোথায় কোথায় করা হয় ।

২.১. যে কোনো Mathematical বা গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য অ্যালগরিদম এর ব্যবহার করা হয়ে থাকে , যেমন ১ সংখ্যা ০ এর থেকে বড়ো তখন যোগ বা Plus (+) আর যদি ছোট হয় তাহলে বিয়োগ (-) ।

২.২. বর্তমানে বেশ অনেক গুলি সার্চ ইঞ্জিন দেখতে পাওয়া যায় , সেই সব সার্চ ইঞ্জিন তাছাড়া ফেসবুক , ইনস্টাগ্রাম , গুগল ম্যাপ ইত্যাদি এইসব এলগোরিদম এর অনুসারে হয়ে থাকে ।

২.৩. বিভিন্ন কম্পিউটার সায়েন্টিস্ট ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা এর ব্যবহার করে থাকে , কারণ এর ফলে তাদের কাজ করতে সময় অনেক কম লাগে , আর কম পরিশ্রমে অনেক কাজ  একসাথে হয়ে যায় ।

২.৪. যে কোনো ফ্লো চার্ট বানানোর সময় যাতে কোনো রকম ভুল না হয় , তার জন্য অ্যালগরিদম এর ব্যবহার করা হয়ে থাকে ।

২.৫. অ্যালগরিদম এর ব্যবহার বেশ কিছু জায়গায় যেমন মহাকাশ গবেষণা , স্যাটেলাইট , রোবট তৈরী , আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলেজেন্স ইত্যাদি ক্ষেত্রে করা হয় ।

২.৬. যে কোনো ধরণের প্রোগ্রাম লেখার আগে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মধ্যে অ্যালগরিদম এর ব্যবহার করা হয় , যদি আপনি কম্পিউটার সাইন্স , আইটি বা ইনফরমেশন টেকনোলজি , BCA বা MCA এর স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন এবং আপনাকে কোনো প্রোগ্রাম লিখতে হবে । সেই প্রোগ্রাম যদি আপনি কিছু চিন্তা ভাবনা না করে লেখা শুরু করেন , তাহলে অনেক ভুল দেখা যাবে, এই ভুল গুলো খুব সহজে অ্যালগরিদম খুঁজে বের করে এবং সমাধান করে । 

২.৭. Sudo কোড লেখার জন্য অ্যালগরিদম এর অনেক প্রয়োজন , না হলে কিছু ভুল হলে আবার নতুন করে Sudo কোড লিখতে হতে পারে ।

চলুন এবার দেখে নেওয়া যাক অ্যালগরিদম এর সুবিধা গুলি কি কি

৩. অ্যালগরিদম এর সুবিধা 

৩.১. অ্যালগরিদম এর সাহায্যে যে কোনো সমস্যার সমাধান খুব সহজে হয়ে থাকে ।

৩.২. একটি অ্যালগরিদম একটি নিশ্চিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করে থাকে ।

৩.৩. অ্যালগরিদম কোনো প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এর উপর নির্ভরশীল নয় , তাই এটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের অভিজ্ঞতা ছাড়াই যে কেউ এলগোরিদম এর সম্বন্ধে খুব সহজে বুঝতে পারে ।

৩.৪. অ্যালগরিদম এর প্রতিটা স্টেপ বা ধাপ ক্রমানুযায়ী সাজানো থাকে , এই জন্য এটি বুঝতে সুবিধা হয় ।

৩.৫. অ্যালগরিদম কে Flow Chart এ কনভার্ট করতে পারেন , এবং পরে এটিকে যে কোনো প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে পরিবর্তন করা যেতে পারে । 

অ্যালগরিদম বাস্তবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলেজেন্স ও মেশিন লার্নিং এর মতো শক্তিশালী টেকনোলজির প্রধান উপাদান হিসেবে কাজ করে । ঠিক তেমনি প্রতিদিন প্রতিনিয়ত নতুন নতুন টেকনোলজি এর সাথে সাথে এলগরিদমের ব্যবহার বৃদ্ধি হচ্ছে , যেমন  ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট , autonomous vehicles এর মতো টেকনোলজিতে এলগরিদমের ব্যবহার করা হয় । 

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি ? ( artificial intelligence in bangla )

 

শেয়ার করুন:

নমস্কার , বঙ্গজ্ঞান ওয়েবসাইটে আপনাদের স্বাগত , আপনাদের বিভিন্ন বিষয়ে যেমন ব্যবসা , ক্যারিয়ার , কম্পিউটার জ্ঞান , ইন্টারনেট ইত্যাদির উপর আমরা তথ্য নিয়ে আসি প্রতি সপ্তাহে সোমবার দুপুর ০২.৩০ মিনিটে। আমাদের উদ্দেশ্য আপনাদের সবার কাছে বাংলা ভাষায় সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া।

Leave a Comment