বিটকয়েন কি ? বিটকয়েনের 10 টি অবাক করা ফ্যাক্ট

5/5 - (5 votes)

আমাদের বিশ্বের সব দেশের নিজস্ব মুদ্রা বা Currency রয়েছে , যার সাহায্যে আমরা বিভিন্ন রকম লেনদেন , কেনা কাটা করে থাকি । সব দেশের মুদ্রা বা Currency  আলাদা আলাদা হয়ে থাকে , এবং এই মুদ্রার নাম ও মূল্য বা Value দেশের হিসেবে রাখা হয়ে থাকে । যেমন ভারতে যে মুদ্রা ব্যবহার করা হয় তার নাম হলো রুপি (Rupee) , আমেরিকা অর্থাৎ USA তে যে currency ব্যবহার করা হয় তাকে ডলার (Dollar ) বলা হয় , বাংলাদেশের মুদ্রা কে টাকা বলা হয় এবং UK এর মুদ্রা বা Currency কে পাউন্ড (Pound ) বলা হয় , ঠিক এই রকম প্রতিটি দেশের আলাদা আলাদা মুদ্রা বা কারেন্সি রয়েছে । 

প্রতিটা দেশের যেমন নিজস্ব Currency রয়েছে ঠিক তেমনি ইন্টারনেটে একধরণের মুদ্রা বা Currency রয়েছে , যার ব্যবহার অনলাইন লেনদেনের জন্য করা হয় , যার নাম হলো বিটকয়েন (Bitcoin Or BTC ) । এর নাম তো আপনারা অনেকেই শুনেছেন , আবার অনেকে ভাবছে বিটকয়েন কি ? 

আজকের এই পোস্টে আমরা আপনাদের বিটকয়েন এর সম্বন্ধে বলবো , যেমন বিটকয়েন কি , এর ব্যবহার কিভাবে করা হয় এবং বর্তমানে কেন এর ব্যবহার করা হচ্ছে ? আর এই মুদ্রার বা  Currency এর মূল্য বা Value কত ? তাই এইসব কিছু জানার জন্য আমাদের এই পোস্ট টি শেষ পর্যন্ত পড়ুন ।

বিটকয়েন কি

বিটকয়েন হলো একটি ভার্চুয়াল কারেন্সী বা একে ডিজিটাল কারেন্সী ও বলা হয়ে থাকে , কারণ এটিকে ডিজিটাল ভাবে ব্যবহার করা হয় । বিটকয়েন কে ভার্চুয়াল কারেন্সী বলার কারণ হলো এই কারেন্সী অন্যান্য কারেন্সী এর থেকে অনেকটা আলাদা , অর্থাৎ অন্যান্য কারেন্সী বলতে যেমন টাকা , রুপি ও ডলার এর মতো আমরা এই ডিজিটাল কারেন্সী কে দেখা ও স্পর্শ বা পকেটে রাখা কোনোটাই করতে পারিনা । কিন্তু তাও একে আমরা অন্যান্য কারেন্সী এর মতো লেনদেনের কাজে ব্যবহার করে থাকি ।

বিটকয়েন কে আমরা শুধুমাত্র অনলাইন ওয়ালেটে স্টোর বা জমা করে রাখতে পারি , এই বিটকয়েন এর আবিষ্কার ২০০৮ সালে Satoshi Nakamoto করেছিলেন , ২০০৯ সালে বিটকয়েন কে গ্লোবাল পেমেন্ট সিস্টেম হিসেবে একে জারি করা হয়েছিল । আর ঠিক তার পর থেকেই বিটকয়েন এর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে ।

বিটকয়েন একটি বিকেন্দ্রীভূত বা Decentralize কারেন্সী , অর্থাৎ এই কারেন্সী কে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার জন্য কোনো ব্যাঙ্ক বা কোনো দেশের সরকার এর হাত নেই , এর মানে এই কারেন্সী এর কোনো নেই ।

বিটকয়েন এর ব্যবহার যে কেউ করতে পারে , যেমন আমরা সকলে ইন্টারনেট ব্যবহার করি , ইন্টারনেটের যেমন কোনো মালিক নেই , ঠিক তেমনই বিটকয়েন এর কোনো মালিক নেই । যার কাছে বিটকয়েন থাকে সে কোনো লেনদেন বা কোনো কিছু কেনা কাটার জন্য একে অন্যান্য মুদ্রা বা কারেন্সী এর মতো ভৌতিক বা Physically ব্যবহার করতে পারেনা , এর ব্যবহার শুধুমাত্র অনলাইনের মাধ্যমে করা যায় । তবে একে অন্যান্য কারেন্সী তে রূপান্তর করা যেতে পারে , যদি আপনার কাছে বিটকয়েন থাকে তাহলে আপনি আপনার দেশের কারেন্সী তে রূপান্তর বা Convert করে নিজের ব্যাঙ্ক একাউন্ট এ ট্রান্সফার করতে পারেন । 

আজকের সময়ে সারা বিশ্বের বিটকয়েন সবচেয়ে দামি মুদ্রা বা কারেন্সী হয়ে উঠেছে , কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সাহায্যে এই কারেন্সী দিয়ে লেনদেন করা যায় । বিটকয়েন কে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও বলা হয়ে থাকে , অনান্য মুদ্রা বা কারেন্সী এর মতো বিটকয়েন কেউ খরচ করা যায় , এছাড়া কিছু কেনা কাটা , কাউকে ট্রান্সফার করার কাজে ব্যবহার করতে পারেন ।

 

ক্রিপ্টোকারেন্সি কি ? cryptocurrency in bengali

 

বিটকয়েন কে কোনো সংস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত করা যায় না , অর্থাৎ বিটকয়েন এর উপর কোনো দেশের সরকারের বা ব্যাঙ্কের কোনো অধিকার থাকে না । এর ব্যবহার বা লেনদেন যে কেউ করতে পারে , কারণ বিটকয়েন এর ব্যবহার কেউ বন্ধ করতে পারবেনা অর্থাৎ  সরকারি সংস্থা আপনাকে ইন্টারনেটের সাহায্যে কাউকে বিটসিন পাঠানো বা লেনদেন করা থেকে আটকাতে পারবেনা । 

তবে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে আপনার সাথে যদি বিটকয়েন সম্বন্ধীয় কোনোরকম চুরি বা প্রতারণা যায় , তাহলে আপনি কারোর কাছে এর নিয়ে কোনো অভিযোগ করতে পারবেন না ,  কারণ এটি কোনো ব্যাঙ্ক ও সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই , কোনোরকম কিছু ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে সেটার সম্পূর্ণ দায় আপনার থাকবে ।

১. বিটকয়েন এর ব্যবহার কোথায় এবং কেন করা হয়

বিটকয়েনের ব্যবহার আমরা অনলাইন পেমেন্ট কিংবা যে কোনো ট্রানসাকশান এর জন্য করতে পারি , বিটকয়েন সাধারণত P2P নেটওয়ার্কের উপর কাজ করে থাকে অর্থাৎ যে কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যাঙ্ক , কোনো সংস্থা , কিংবা কোনো ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি লেনদেন বা Transaction করতে পারে ।

বিটকয়েন কি

 

কোনো কোনো ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনের ক্ষেত্রে ১-২ শতাংশ চার্জ বা ফিস লাগে , কিন্তু বিটকয়েন এর ক্ষেত্রে এরম কোনো চার্জ বা ফিস দিতে হয় না । আর বিটকয়েন জনপ্রিয় হওয়ার এটা একটা অন্যতম কারণ , এছাড়া এটি অনেক ফাস্ট বা সুরক্ষিত , তাই বিটকয়েন কে অনেকে পছন্দ করছে ।

বর্তমান সময়ে অনেক ব্যাক্তি ও সংস্থা বিটকয়েন ব্যবহার করছে যেমন অনলাইন ডেভেলপার , উদ্যোক্তা , বিভিন্ন Organization ইত্যাদি , আর এই কারণে পুরো বিশ্বে Global Payment হিসেবে বিটকয়েন কে ব্যবহার করা হচ্ছে ।

সাধারণত আমরা যে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে থাকি সেখানে নির্দিষ্ট কিছু  সীমাবদ্ধতা থাকে , কিন্তু বিটকয়েনের ক্ষেত্রে সেরম কোনো সীমাবদ্ধতা নেই ।

 

ডিজিটাল মার্কেটিং কি ? ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখব ? সম্পূর্ণ তথ্য

 

২. বিটকয়েন এর দাম বা ভ্যালু

বিটকয়েন এর দাম বা ভ্যালু কম বা বেশি হতে থাকে কারণ একে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোনো সংস্থা ও কর্তৃপক্ষ নেই , তাই এর মূল্য বা ভ্যালু এর চাহিদা অনুসারে কমতে ও বাড়তে থাকে । বিটকয়েন এর দাম বা ভ্যালু প্রতিটা দেশে আলাদা আলাদা হয়ে থাকে , কারণ এর প্রচলন সারা বিশ্বে রয়েছে , তাই এর মূল্য প্রতিটা দেশের কারেন্সী ভ্যালুর উপর নির্ভর করে । 

এবার আপনাদের অনেকের মনে একটা প্রশ্ন নিশ্চয় আসছে যে বিটকয়েন কে কিভাবে পাওয়া যেতে পারে  ? বা এর জন্য কোথায় যেতে হবে ? কি করতে হবে ? সাধারণত বিটকয়েন কে আপনি দুভাবে পেতে বা কিনতে পারেন ,  

২.১. বিভিন্ন প্লাটফর্ম থেকে সরাসরি কিনে নেওয়া 

প্রথম হলো আপনার কাছে যদি টাকা থাকে , তাহলে আপনি সরাসরি টাকা দিয়ে বিটকয়েন কিনে নিতে পারেন , এছাড়া যদি আপনার কাছে সেরম টাকা নেই কিন্তু আপনি বিটকয়েন কিনতে চান , তাহলে সেটার জন্য উপায় আছে , যদি আপনি সম্পূর্ণ একটি বিটকয়েন কিনতে না পারেন , তাহলে আপনি এর সবচেয়ে ছোট ইউনিট Satoshi কিনতে পারেন , যেমন ১০০ পয়সা সমান ১ টাকা হয় , ঠিক তেমন ১ টি বিটকয়েন সমান ১০ কোটি Satoshi হয়ে থাকে , তাই আপনি চাইলে বিটকয়েন এর সবচেয়ে ছোট ইউনিট Satoshi কিনতে পারেন , এবং আসতে আসতে বিটকয়েন জমা করতে পারেন । যখন আপনার কাছে অনেক বিটকয়েন জমা হয়ে যাবে তখন আপনি এটা বিক্রি করে ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন ।

 

মেটাভার্স কি ? মেটাভার্স কেনই বা এতো জনপ্রিয় ? (what is metaverse in bangla)

 

» বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম

বিটকয়েন কেনা বেচার জন্য ভারতে দুটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট রয়েছে , একটি হলো Zebpay.com ও অপরটি হলো Unocoin.com , এই দুটো ওয়েবসাইট থেকে আপনি বিটকয়েন কিনতে এবং বিক্রি করতে পারেন । বিটকয়েন কেনার জন্য সবচেয়ে প্রথমে আপনাকে এই দুটি ওয়েবসাইটের মধ্যে যে কোনো একটিতে একাউন্ট বানাতে হবে , আর একাউন্ট হবার পর আপনাকে কিছু ডকুমেন্টস সাবমিট করতে হবে এই ওয়েবসাইটে , যেমন আধার কার্ড , ভোটার কার্ড , PAN কার্ড , বৈধ মোবাইল নম্বর ও ইমেইল আইডি ও ব্যাঙ্ক একাউন্ট ডিটেইলস । এরপর একাউন্ট তৈরী হয়ে যাওয়ার পর আপনি বিটকয়েন কিনতে এবং বিক্রি করতে পারেন । 

বিটকয়েন কি

২.২. বিটকয়েন মাইনিং করে বিটকয়েন পাওয়া 

সাধারণত মাইনিং কথার অর্থ হলো যে কোনো জায়গায় খনন করে কিছু উত্তলোন করা যেমন সোনা , কয়লা ইত্যাদি , কিন্তু এখন আপনাদের মনে একটা প্রশ্ন আসছে যে বিটকয়েন কে তো স্পর্শ করা যায় না , চোখেও দেখা যায় না , তাহলে বিটকয়েন মাইনিং কিভাবে সম্ভব ? তাহলে আপনাদের বলে দি যে বিটকয়েনের যেহেতু কোনো ভৌতিক রূপ নেই তাই খনন করে মাইনিং করাও সম্ভব নয় ।

তাই এখানে মাইনিং কথার অর্থ হলো বিটকয়েন তৈরী করা , যেটা একমাত্র কম্পিউটার দ্বারা সম্ভব , অর্থাৎ নতুন বিটকয়েন তৈরী করার পদ্ধতি কে বিটকয়েন মাইনিং বলা হয় ।

 

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি ? ( artificial intelligence in bangla )

 

সাধারণত বিটকয়েন মাইনিং মাইনার্স করে থাকে , এর জন্য হাই স্পিড প্রসেসর , হাই স্পিড কম্পিউটার ও মাইনিং সফটওয়্যার এর প্রয়োজন হয় ।

আমরা বিটকয়েনের ব্যবহার সাধারণত অনলাইন পেমেন্ট করার জন্য করে থাকি , আর যখন কেউ বিটকয়েন থেকে পেমেন্ট করে তখন ওই লেনদেন বা Transactions কে Verify করা হয় , যে এই Verify করে তাকে আমরা Miners বলে থাকি । আর এই Miners উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটার ও হার্ডওয়্যার থাকে , যার সাহায্যে সেই লেনদেন বা Transactions গুলোকে Verify করে ।

একজন Miners বিশেষ ধরণের কম্পিউটার ব্যবহার করে বিভিন্ন উপায়ে লেনদেন বা Transactions কে সম্পন্ন করে এবং Transactions Network কে সুরক্ষিত করে । আর এই কাজের জন্য অর্থাৎ এই Verification এবং লেনদেন করার কাজের জন্য Miners কিছু বিটকয়েন গিফ্ট হিসেবে পেয়ে থাকে । 

কিন্তু লেনদেন বা Transactions Verify করা সহজ নয় , কারণ এর মধ্যে অনেক বড়ো বড়ো ম্যাথমেটিক্যাল ক্যালকুলেশন বা গণনা থাকে এবং সেগুলোকে সমাধান করতে হয় যেটা অনেক জটিল হয়ে থাকে ।

বিটকয়েন মাইনিং যে কেউ করতে পারে , কিন্তু এর জন্য উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটার বা হাই স্পিড কম্পিউটার এর প্রয়োজন হয়ে থাকে । মাইনিং এর কাজ তারাই করে যাদের কাছে জটিল গণনা করার মতো কম্পিউটার থাকে।

 

সুপার কম্পিউটার কি ? সুপার কম্পিউটার এর ব্যবহার (What is Super Computer)

 

ভারতীয় রিসার্ভ ব্যাঙ্ক (Reserve Bank Of India ) ভারতের জনগণ কে এই মুদ্রাতে বা কারেন্সী তে বিনিয়োগ করতে মানা করছে , তা সত্ত্বেও অনেক সংখক মানুষ এই মুদ্রা তে বিনিয়োগ করেছে । ২৪ ডিসেম্বর ২০১৩ সালে ভারতীয় রিসার্ভ ব্যাঙ্ক বিটকয়েনের সম্বন্ধে বলেছিলো যে এই কারেন্সী এর কোনোরকম সরকারি অনুমোদন ও স্বীকৃতি নেই , এবং এর লেনদেন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বটে , এরপর ভারতীয় রিসার্ভ ব্যাঙ্ক ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ এবং ৫ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে পুনরায় একই সতর্কতা নোটিশ জারি করেছিল ।

চলুন এবার দেখে নেওয়া যাক বিটকয়েনের আকর্ষণীয় কিছু ফ্যাক্ট ,

৩. বিটকয়েনের কিছু ফ্যাক্ট (Interesting Fact About Bitcoin )

বিটকয়েনের সম্বন্ধে আপনারা জানলেন , কিন্তু বিটকয়েনের সাথে জড়িত কিছু ফ্যাক্ট বা তথ্য রয়েছে যার মধ্যে কিছু হয়তো আপনি জানেন এবং কয়েকটি তথ্য আপনাকে অবাক করে দিতে পারে , এবং এই ফ্যাক্ট বা তথ্য গুলো আপনাকে বিটকয়েন ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্বন্ধে বেশ কিছু ধারণা স্পষ্ট করবে , চলুন এবার দেখে নেওয়া যাক বিটকয়েনের ১০ টি Interesting Fact ।

বিটকয়েন কি

 

১. ক্রিপ্টোকারেন্সি অর্থাৎ ভার্চুয়াল কারেন্সী এর দুনিয়ায় ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বিটকয়েন ১ নম্বর ক্রিপ্টোকারেন্সি হিসেবে জনপ্রিয় রয়েছে , বিটকয়েন ছাড়াও বিশ্ববাজারে আরও ৫০০০ এর বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি রয়েছে ।

২. বিটকয়েনের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল কারেন্সী দিয়ে আপনি লেনদেন ও কেনা বেচা করতে পারেন , এছাড়া আপনি ইনভেস্ট বা বিনিয়োগ করতে পারেন ।

৩. বিটকয়েন এর আবিস্কারক এর সম্বন্ধে আজ পর্যন্ত স্পষ্ট ভাবে কিছু জানা যায়নি , প্রথম বিটকয়েন কে ২০০৯ সালে প্রকাশ করা হয় , এবং সেইসময় একজনের নাম উঠে এসেছিলো যার নাম Satoshi Nakamoto , কিন্তু আজ পর্যন্ত এই ব্যক্তির কোনো হদিশ পাওয়া যায়নি ।

৪. বিটকয়েনের পরিমান সীমাবদ্ধ , মাত্র ২১ মিলিয়ন বিটকয়েন উপলব্ধ রয়েছে ।

৫. বিটকয়েন চোখে না দেখা গেলেও বিটকয়েন তৈরী করার উপায় কে মাইনিং বলা হয় , আর এই মাইনিং এর জন্য Blockchain টেকনোলজি ব্যবহার করা হয় ।

৬. বিটকয়েন এর মাধ্যমে সবচেয়ে প্রথম লেনদেন করা হয়েছিল ২২ মে ২০১০ সালে একটা pizza এর পেমেন্ট করে ।

৭. আপনার বিটকয়েন অনলাইন ওয়ালেট টি যদি হারিয়ে যায় , অর্থাৎ আইডি, পাসওয়ার্ড ও key যদি হারিয়ে যায় , তাহলে আপনার ওয়ালেটে থাকা সমস্ত বিটকয়েন ও হারিয়ে যাবে , অর্থাৎ আপনি সেই বিটকয়েন গুলিকে এক্সেস করতে পারবেন না , তাই আপনার ওয়ালেট এর আইডি , পাসওয়ার্ড ও Key যত্নে রাখুন ।

৮. ব্যাঙ্ক লেনদেনের ক্ষেত্রে যেরকম টাকা ভুল একাউন্ট নম্বরে চলে গেলে ফেরত আনা সম্ভব , বিটকয়েনের ক্ষেত্রে ঠিক তার উল্টো , কারণ এখানে কোনো সংস্থা বা ব্যাংক লিপ্ত নেই , তাই একবার বিটকয়েন অন্য কারোর একাউন্ট নম্বরে চলে গেলে , সেখান থেকে ফেরত পাওয়া অসম্ভব , তাই বিটকয়েন এর সাহায্যে Transaction করার সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন ।

৯. বিটকয়েনের Transaction এর ক্ষেত্রে Sender ও Receiver এর Details লুকানো অর্থাৎ Hide করা থাকে , ফলে অবৈধ Transaction বা লেনদেন গুলি বিটকয়েনের মাধ্যমে হয়ে থাকে ।

১০. বিটকয়েন একটি Volatile কারেন্সী অর্থাৎ বিটকয়েনের মূল্য অনেক বেশি ওঠা নামা করে , প্রধান কারণ হলো বিভিন্ন ঘটনা ও খবর , বাজারের অবস্থা , বর্তমান সময় ও অবস্থা ইত্যাদি ।

৪. বিটকয়েন মাইনিং

একনজরে : আজকের এই পোস্ট থেকে আমরা কি কি জানলাম

প্রথমে জানলাম বিটকয়েন কি ? তারপরে আমরা জানলাম বিটকয়েনের ব্যবহার এবং তারপরে জানলাম বিটকয়েনের মূল্য বা ভ্যালু , এবং সবশেষে জানলাম বিটকয়েনের ১০ টি Interesting ফ্যাক্ট । 

আজকের আমাদের এই পোস্ট থেকে আশা করি আপনারা বিটকয়েন কি এবং বিটকয়েন সম্বন্ধে বেশ কিছু তথ্য জানতে পেরেছেন , এছাড়া যদি বিটকয়েন সম্বন্ধে আরও কিছু জানার থাকে কিংবা আমাদের এই পোস্ট যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অতি অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন । আমরা সবসময় চেষ্টা করি আপনাদের জন্য নিত্য নতুন তথ্য নিয়ে আসতে এবং আপনাদের সঠিক তথ্য প্রদান করতে , তাই নতুন তথ্য জানতে হলে আমাদের ব্লগের সাথে যুক্ত থাকুন ।

ধন্যবাদ 

বঙ্গজ্ঞান টীম 

শেয়ার করুন:

নমস্কার , বঙ্গজ্ঞান ওয়েবসাইটে আপনাদের স্বাগত , আপনাদের বিভিন্ন বিষয়ে যেমন ব্যবসা , ক্যারিয়ার , কম্পিউটার জ্ঞান , ইন্টারনেট ইত্যাদির উপর আমরা তথ্য নিয়ে আসি প্রতি সপ্তাহে সোমবার এবং শুক্রবার । আমাদের উদ্দেশ্য আপনাদের সবার কাছে বাংলা ভাষায় সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া।

2 thoughts on “বিটকয়েন কি ? বিটকয়েনের 10 টি অবাক করা ফ্যাক্ট”

Leave a Comment